home / travel / rajshahi ultimate travel guide

রাজশাহীর আল্টিমেট ভ্রমণ গাইড

contents 10
  1. 01 এক নজরে রাজশাহী
  2. 02 কখন আসবেন
  3. 03 ঢাকা থেকে কীভাবে আসবেন
  4. 04 কোথায় থাকবেন
  5. 05 কী দেখবেন
  6. 06 কী খাবেন
  7. 07 আম: রাজশাহীর আসল রাজা
  8. 08 কী কিনবেন
  9. 09 ভ্রমণ টিপস
  10. 10 জরুরি যোগাযোগ

ঢাকা থেকে রাজশাহী, কখন আসবেন, কোথায় উঠবেন, পদ্মার ধারে কী খাবেন, পুঠিয়া-বাঘা থেকে কী দেখবেন, রেশম-আম-গুড় কোথায় কিনবেন, আর হাতের কাছে কোন নম্বরগুলো রাখবেন। এক বসায় পড়লেই রাজশাহী চিনে যাবেন।

পদ্মা নদীর উত্তরের একটা শান্ত, ছিমছাম শহর রাজশাহী। দু-দু’বার বিশ্বের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহরের তালিকায় উঠে আসা এই শহরের পরিচয় শুধু “রেশম নগরী” বা “আমের রাজধানী” বললে সম্পূর্ণ হয় না। এখানে আছে প্রাচীন ভারতের ছাপ, সুফি সাধকের মাজার, পদ্মার পাড়ের অবিরাম হাওয়া, আর সন্ধ্যা ছ’টায় চুলায় ভাজা গরম কালাই রুটির ঘ্রাণ।

বাংলাদেশের যে কোনো শহর থেকে আসা মানুষের জন্য এই গাইড। কোন ট্রেন কখন ছাড়ে, কোন হোটেলে দাম কত, কোথায় গেলে কী খেতে পারবেন, কী কিনে ফিরবেন; এক জায়গায় সব।

এক নজরে পড়তে চাইলে এখানেই থামুন: কখন আসবেন · কীভাবে আসবেন · কোথায় থাকবেন · কী দেখবেন · কী খাবেন · আম · কী কিনবেন · টিপস · জরুরি যোগাযোগ

পদ্মা নদীর তীরে সূর্যাস্ত, রাজশাহী
পদ্মার পাড়ে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা। ছবি: Wikimedia Commons

০০ · এক নজরে রাজশাহী

০১ · কখন আসবেন

রাজশাহী ঘুরতে যাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময় কোনটি, সেটা আসলে আপনি কী দেখতে চান তার ওপর নির্ভর করে।

সময়ঋতুকেন আসবেন
নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারিশীতঘোরাঘুরির আদর্শ সময়। পদ্মার চরে পিকনিক, কুয়াশায় মোড়া পুঠিয়া।
মার্চ থেকে এপ্রিলবসন্তপহেলা বৈশাখ, সাহেব বাজারের মেলা। গরম পড়তে শুরু করে।
মে থেকে জুলাইগ্রীষ্মআমের মৌসুম। ফজলি, ল্যাংড়া, ক্ষীরশাপাতি, আম্রপালি, হিমসাগর; গাছ থেকে সরাসরি কিনে আনতে চাইলে এই সময়।
অগস্ট থেকে অক্টোবরবর্ষা ও শরৎপদ্মা ভরে যায়, প্রকৃতি সবুজ। তবে বৃষ্টিতে ঘুরে বেড়ানো কঠিন।

আমাদের পরামর্শ: প্রথমবার এলে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি। আম-প্রেমী হলে জুনের প্রথম তিন সপ্তাহ, যখন ক্ষীরশাপাত আর হিমসাগর একসাথে পাকে।

০২ · ঢাকা থেকে কীভাবে আসবেন

ঢাকা থেকে রাজশাহী আসার চারটি বিকল্প: ট্রেন, বাস, বিমান, নিজস্ব/ভাড়ার গাড়ি। ব্যক্তিগতভাবে আমি ট্রেন পছন্দ করি; আরামদায়ক, পদ্মা পেরোনোর সময় জানালা থেকে চমৎকার দৃশ্য পাওয়া যায়।

ট্রেনে (সবচেয়ে আরামদায়ক)

ঢাকা কমলাপুর থেকে রাজশাহী রেলস্টেশন পর্যন্ত প্রতিদিন পাঁচটি আন্তঃনগর ট্রেন চলে।

ট্রেনঢাকা ছাড়েরাজশাহী পৌঁছায়বন্ধের দিনসময়
ধূমকেতু এক্সপ্রেসভোর ৬:০০সকাল ১১:৪০শনিবার৫ ঘ ৪০ মি
সিল্ক সিটি এক্সপ্রেসদুপুর ২:৪৫রাত ৮:৩৫রবিবার৫ ঘ ৫০ মি
বনলতা এক্সপ্রেস (ননস্টপ)দুপুর ১:৩০সন্ধ্যা ৬:০৫শুক্রবার৪ ঘ ৩৫ মি
পদ্মা এক্সপ্রেসরাত ১০:৪৫ভোর ৪:৩০মঙ্গলবার৫ ঘ ৪৫ মি
মধুমতী এক্সপ্রেসদুপুর ৩:০০রাত ১০:০০বৃহস্পতিবার৭ ঘ ০০ মি

বনলতা সবচেয়ে দ্রুত, তবে শুক্রবার বন্ধ। দিনে যেতে চাইলে বনলতা বা সিল্ক সিটি, রাতে গেলে পদ্মা।

ভাড়া ও টিকিট কাটার নিয়ম

ভাড়া (২০২৬, একমুখী):

সিট ক্লাসভাড়া
শোভন চেয়ার৩৪০-৪০৫ টাকা
স্নিগ্ধা (এসি চেয়ার)৬৫৬-৭৭১ টাকা
এসি সিট৭৮৩-৯২০ টাকা
এসি বার্থ১,১৭৩-১,৩৮৬ টাকা

টিকিট কাটার নিয়ম:

  • যাত্রার ১০ দিন আগে থেকে অনলাইনে কাটা যায়: eticket.railway.gov.bd
  • মোবাইল অ্যাপ: Rail Sheba
  • হেল্পলাইন: 13228 (২৪ ঘণ্টা)
  • কাউন্টারে কাটলে যাত্রার দিন ৬ ঘণ্টা আগেই যেতে হবে।

বাসে (সবচেয়ে সাশ্রয়ী)

ঢাকার গাবতলী/কল্যাণপুর/তেজগাঁও থেকে রাজশাহীর শিরোইল বাস টার্মিনাল পর্যন্ত প্রায় সব বড় কোম্পানির বাস চলে।

অপারেটরএসি ভাড়ানন-এসি ভাড়াযোগাযোগ
হানিফ এন্টারপ্রাইজ১,২০০-১,৪০০ টাকা৫৫০-৬৫০ টাকা01713-049559
শ্যামলী পরিবহন১,১০০-১,৩০০ টাকা৫৫০-৬৫০ টাকা01865-068926
দেশ ট্র্যাভেলস১,৩০০-১,৬০০ টাকানেই01762-684431
ন্যাশনাল ট্র্যাভেলস১,১০০-১,৩০০ টাকা৫৫০ টাকাnationaltravels-bd.com
একতা পরিবহন১,০০০-১,২০০ টাকা৪৮০-৬০০ টাকা01875-073300
গ্রামীণ ট্র্যাভেলস১,১০০-১,৩০০ টাকা৫২০ টাকা01734-721574

অনলাইনে কাটতে: shohoz.com, bdtickets.com, busbd.com.bd

প্রথম বাস ছাড়ে ভোর ৬:০০টা থেকে, শেষ রাতে ১১:৫৫ পর্যন্ত। যাত্রার সময় ৬-৭ ঘণ্টা, ফেরির অপেক্ষা না থাকলে আরও কম। এসি-তে গেলে দেশ ট্র্যাভেলসের সুপারিশ; সিট আরামদায়ক, ড্রাইভিং ভাল।

নিজস্ব গাড়িতে

ঢাকা থেকে রাজশাহী সড়কপথে দুটি রাস্তা:

  • N5 হয়ে: ঢাকা → মানিকগঞ্জ → পাটুরিয়া ঘাট (ফেরি) → কাশিনাথপুর → পাবনা → রাজশাহী। ফেরিতে অপেক্ষাসহ ৮-১০ ঘণ্টা।
  • N4 / N507 যমুনা সেতু হয়ে (সবচেয়ে সহজ): ঢাকা → টাঙ্গাইল → যমুনা সেতু → সিরাজগঞ্জ → পাবনা → নাটোর → রাজশাহী। ৬-৭ ঘণ্টা; এটাই সবচেয়ে সরাসরি ও পরিচিত পথ।

জ্বালানি খরচ ছাড়াও যমুনা সেতুর টোল (প্রায় ৫৫০-৬৫০ টাকা প্রাইভেট কারের জন্য) ধরে নেবেন। পথে বনপাড়া বাইপাস ধরে নাটোর-রাজশাহী হাইওয়েতে উঠলে নাটোরের কাঁচাগোল্লা চেখে দেখার একটা সুযোগ পাবেন।

মহাসড়কে কোথায় থামবেন

রাজশাহীগামী মূল কয়েকটা পরিচিত আর পরিষ্কার রেস্তোরাঁ; নিজস্ব গাড়ি বা ভাড়ার মাইক্রোতে গেলে কাজে আসবে।

রেস্তোরাঁঅবস্থানবিশেষত্ব
হাইওয়ে ইন (Highway Inn)হাটিকুমরুল, সিরাজগঞ্জ২৪/৭, পরিষ্কার ওয়াশরুম, সেট মেনু
অ্যারিস্টোক্র্যাট (Aristocrat)হাটিকুমরুল–বনপাড়া হাইওয়েবড় পার্কিং, পরিবারবান্ধব, সেট মেনু-আ-লা-কার্ত দু’টোই
মামা হালিম (Mama Halim)হাটিকুমরুল মোড়বিখ্যাত হালিম, সাথে রুটি
ফুডিক্স (Foodix)এলেঙ্গা, টাঙ্গাইলআধুনিক, পার্কিং বড়, ভাল কফি
বাংলার খাবার ঘরচান্দাইকোনা, সিরাজগঞ্জদেশি ভর্তা থালা
বনপাড়া হাইওয়ে রেস্টুরেন্টবনপাড়া বাইপাস, নাটোরনাটোর-রাজশাহী হাইওয়ের শেষ বড় স্টপ
সায়েদ ফুডস (Sayed Foods)বনপাড়া মোড়দ্রুত পরিবেশন, চা-ব্রেক

দাম, খোলা থাকার সময় ও মেনু মাঝে মাঝে বদলায়; নামের লিংকে ক্লিক করে Google Maps-এ সর্বশেষ রিভিউ, ছবি ও খোলার সময় দেখে নিন।

পরামর্শ:

  • সকালে বের হলে হাটিকুমরুলে ব্রেকফাস্ট (৮-৯টার দিকে), পরে এলেঙ্গা/চান্দাইকোনায় বিরতি, বনপাড়ায় চা-বিরতি; এই রুটিন বহুদিনের পরীক্ষিত।
  • রাতে যেতে চাইলে হাইওয়ে ইন (হাটিকুমরুল) সবচেয়ে নিরাপদ; ২৪ ঘণ্টা খোলা, ওয়াশরুম ভাল।
  • পথে নাটোরের কাঁচাগোল্লা কিনে আনতে পারেন; বনপাড়া পার হয়ে দুই-তিনটা পরিচিত দোকান আছে।

বিমানে (সবচেয়ে দ্রুত)

ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দর (RJH) প্রায় ৫০ মিনিটের ফ্লাইট।

এয়ারলাইন্সদৈনিক ফ্লাইটএকমুখী ভাড়াযোগাযোগ
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স১-২টি৩,৫০০-৬,০০০ টাকাusbair.com
নভোএয়ার১-২টি৪,০০০-৬,৫০০ টাকাnovoair.com
বিমান বাংলাদেশ১টি৪,০০০-৭,০০০ টাকাbiman-airlines.com

আগেভাগে বুক করলে ৩,০০০ টাকার মধ্যেও পাওয়া যায়।

বিমানবন্দর থেকে শহরে আসা

শাহ মখদুম বিমানবন্দর শহর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে। বিমানবন্দরের ভেতরে অটো/CNG পাওয়া যায় কিন্তু সেগুলো প্রায়ই বেশি দাম চায় (৫০০-৮০০ টাকা)। সবচেয়ে আরামদায়ক উপায়:

  • আগে থেকে অটো/কার বুক করে রাখুন। আপনার হোটেলকে বলুন; বেশিরভাগ মাঝারি ও উচ্চমানের হোটেল (Grand River View, Royal Raj Condominium, পর্যটন মোটেল) বিমানবন্দর পিকআপের ব্যবস্থা করে, কিছু ফ্রি।
  • নিজে অগ্রিম ডাকতে চাইলে: পরিচিত স্থানীয়র মাধ্যমে CNG/মাইক্রোবাস (৩০০-৫০০ টাকা)।
  • ফ্লাইট ল্যান্ডিংয়ের পর তাড়াহুড়ো না থাকলে: বিমানবন্দর গেট থেকে ১০০-২০০ মিটার হেঁটে রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে উঠে অটো ডাকলে অনেক কম খরচ।

০৩ · কোথায় থাকবেন

রাজশাহীতে দামের প্রায় সব রেঞ্জের হোটেল আছে। অগ্রিম বুকিং করুন, বিশেষ করে আমের মৌসুম (মে-জুলাই) আর শীতকালে (ডিসেম্বর-জানুয়ারি)।

তথ্য যাচাই: নিচের প্রতিটি হোটেলের নামে ক্লিক করলে Google Maps-এ লোকেশন, রিভিউ, ছবি, ফোন নম্বর ও সর্বশেষ খোলা/বন্ধের তথ্য পাওয়া যাবে। দাম মৌসুমভেদে বদলায়; বুকিংয়ের আগে সরাসরি কল করে নিশ্চিত হয়ে নিন।

রাজশাহী শহরের সবচেয়ে আরামদায়ক বাছাইগুলো। ফ্যামিলি/বিজনেস ট্রিপের জন্য আদর্শ। সাধারণত ৪,৫০০ টাকার ওপরে; পিক সিজনে আরও বেশি।

হোটেলএলাকাবিশেষত্ব
Grand River View Hotelপদ্মার ধারেপদ্মা-ভিউ রুম, ইন-হাউস রেস্তোরাঁ, Booking.com-এ পাওয়া যায়
Royal Raj Hotel ও Condominiumশালবাগানশহরের কেন্দ্রের কাছে, কনফারেন্স হল, ফ্যামিলি স্যুট
Hotel Star Internationalনিউমার্কেটপুরোনো লাক্সারি, কেনাকাটার এলাকার ভেতরে
Hotel X Internationalশহরের কেন্দ্রনতুন ৪-তারা মানের প্রপার্টি
Hotel Nice International (Deluxe)মালোপাড়ামাঝারি বাজেটে উচ্চমানের রুম
পর্যটন মোটেল (VIP রুম)আব্দুল মজিদ রোডসরকারি, পদ্মার কাছে, অনলাইন বুকিং

বেশিরভাগ লাক্সারি প্রপার্টি বিমানবন্দর পিকআপ অফার করে; বুকিংয়ের সময় জিজ্ঞাসা করুন।

দাম-মান যেখানে ভাল মেলে। প্রথমবার এলে এই টিয়ারটাই সবচেয়ে নিরাপদ বাছাই। সাধারণত ১,৫০০-৪,০০০ টাকার মধ্যে।

হোটেলএলাকাবিশেষত্ব
পর্যটন মোটেলআব্দুল মজিদ রোডসরকারি, নিরাপদ, ফ্যামিলির জন্য সুবিধাজনক; অনলাইন বুকিং
Hotel Warishan Internationalপদ্মার দিকেশহরের কেন্দ্র থেকে কাছে
Hotel Dallas Internationalশালবাগানবাস স্ট্যান্ডের কাছে, যাতায়াতে সুবিধা
Hotel Haque’s Innসাহেব বাজারপুরোনো নাম, খাবার-দাবারে বিশ্বস্ত
Hotel Razzaque Internationalনিউমার্কেট এলাকাশপিং এলাকার ভেতরে
Hotel Sky Parkকোর্ট স্টেশনকাছের রেলস্টেশন, একা/জোড়ার জন্য ভাল

কম খরচে রাত কাটাতে চাইলে। ব্যাকপ্যাকার আর সলো-ট্রাভেলারের জন্য। সাধারণত ৬০০-১,৬০০ টাকা।

হোটেলএলাকাবিশেষত্ব
Hotel Mukto Mahalসাহেব বাজারপুরোনো বাজেট, শহরের কেন্দ্রে
Hotel Star Internationalনিউমার্কেটবাজেট সাইডের রুমও আছে
Hotel Nice Internationalমালোপাড়াবাজেট রুম সিম্পল, কিন্তু পরিষ্কার
Hotel Razzaque (Economy)নিউমার্কেটকমদামি রুমও আছে
রেলওয়ে রিটায়ারিং রুমরেলস্টেশনশুধু ট্রেন টিকিটধারীদের জন্য, কাউন্টারে যোগাযোগ

সবচেয়ে সস্তা অপশন: লক্ষ্মীপুর এলাকায় কিছু ছোট আবাসিক হোটেল আছে; কাউন্টার বুকিং, দাম তুলনামূলকভাবে কম। সাধারণত একটু পুরোনো; পরিবারের জন্য না হলেও একা/দু’জনের জন্য চলে।

বিকল্প — এয়ারবিএনবি/বুটিক স্টে:

  • Jatra Flagship Rajshahi City Centre · পদ্মা আবাসিক এলাকা-র ভেতরে একটা ৪-তারা মানের বুটিক স্টে। ফার্নিশড রুম, কুইন বেড, বারান্দা, কমপ্লিমেন্টারি ব্রেকফাস্ট। Airbnb / Booking.com / Agoda-তে পাওয়া যায়।
  • পদ্মা আবাসিক এলাকা-য় আরও কয়েকটি এয়ারবিএনবি ফ্ল্যাট আছে; পরিবার বা ছোট গ্রুপ গেলে হোটেলের চেয়ে আরামদায়ক, রান্নাঘর-সহ। Airbnb অ্যাপ বা সাইটে Rajshahi সার্চ করুন

সরকারি কর্মকর্তা, একাডেমিক রেফারেন্স বা সরকারি কাজে আসা ভ্রমণকারীদের জন্য। বুকিংয়ে সাধারণত সরকারি প্রতিষ্ঠান বা যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগে।

অবস্থানকার জন্যযোগাযোগ
জেলা সার্কিট হাউস, রাজশাহীসরকারি কর্মকর্তা/সরকারি অনুমোদনজেলা প্রশাসকের কার্যালয়
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় গেস্ট হাউসএকাডেমিক রেফারেন্সেRU প্রশাসন
রুয়েট গেস্ট হাউসএকাডেমিক/প্রকৌশল রেফারেন্সRUET প্রশাসন
পিডব্লিউডি/রেলওয়ে রেস্ট হাউসবিভাগীয় সরকারি কর্মীনিজ নিজ বিভাগ
আনসার-ভিডিপি রিসোর্স সেন্টারপূর্ব অনুমোদনেজেলা কমান্ড্যান্ট

অগ্রিম সরকারি চিঠি বা ডিও-সহ আবেদন করলে সাধারণত ২-৪ দিন আগে নিশ্চিত হয়ে যায়। ভাড়া তুলনামূলকভাবে কম, কিন্তু রুম সংখ্যা সীমিত।

কোথায় থাকব? প্রথমবার এলে পর্যটন মোটেল নিরাপদ আর সুবিধাজনক বাছাই, শহরের কেন্দ্রে। ফ্যামিলি নিয়ে আরাম চাইলে রয়েল রাজ। বাজেটে হলে মুক্ত মহল।

০৪ · কী দেখবেন

রাজশাহী ঘোরার দু’টা ভাগ; শহরের ভেতরে আর শহরের আশেপাশে। শহরের ভেতরের জায়গাগুলো একদিনে অটোরিকশায় ঘুরে শেষ করা যায়। আশেপাশের ঐতিহাসিক জায়গা দেখতে চাইলে অন্তত একটা পুরো দিন আলাদা রাখুন; বিশেষ করে পুঠিয়া আর বাঘা। প্রতিটি জায়গার বিস্তারিত দেখতে নিচের কার্ডে ক্লিক করুন।

শহরের ভেতরে

০১ · পদ্মার পাড়
রাজশাহীর টি-বাঁধে সন্ধ্যার ভিড়
টি-বাঁধ: শহরের সবচেয়ে প্রিয় বিকেলবেলা। ছবি: Wikimedia Commons
তথ্যবিস্তারিত
অবস্থানটি-বাঁধ · আই-বাঁধ · পদ্মা গার্ডেন
খোলা সময়সারাদিন, আদর্শ বিকেল ৪টার পর থেকে সূর্যাস্ত
প্রবেশ ফিবিনামূল্যে; নৌকা ২০০-৫০০ টাকা/ঘণ্টা
কীভাবে যাবেনশহরের যে কোনো জায়গা থেকে অটোরিকশায় ২০-৪০ টাকা
দেখার সময়১-২ ঘণ্টা

আই-বাঁধে ভিড় কম, যাঁরা একা বসে পদ্মা দেখতে চান তাঁদের জন্য ভাল। পদ্মা গার্ডেনে সিঁড়ি বেয়ে পানির খুব কাছে নামা যায়। সন্ধ্যায় ঝালমুড়ি, চটপটি, গরম চা; দাম কম, স্বাদ ভাল।

০২ · বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর
বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর, রাজশাহী
বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর। ছবি: Wikimedia Commons

দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে পুরোনো জাদুঘরগুলোর একটি, ১৯১০ সালে স্থাপিত।

তথ্যবিস্তারিত
অবস্থানহেতেম খাঁ, রাজশাহী
খোলা সময়শনিবার-বৃহস্পতিবার, সকাল ১০টা-বিকেল ৫টা
বন্ধের দিনশুক্রবার ও সরকারি ছুটি
প্রবেশ ফি২০ টাকা (বাংলাদেশি) · ১০০ টাকা (বিদেশি) · শিক্ষার্থীদের ছাড়
দেখার সময়১ ঘণ্টা

পাল-সেন আমলের পাথরের ভাস্কর্য, প্রাচীন মুদ্রা, পাণ্ডুলিপি, পোড়ামাটির ফলক; পুরো রাজশাহী অঞ্চলের ইতিহাসের একটা সারমর্ম এখানেই।

০৩ · হজরত শাহ মখদুম রূপোশের মাজার
হজরত শাহ মখদুম রূপোশের মাজার, রাজশাহী
হজরত শাহ মখদুম রূপোশের মাজার, দরগাপাড়া। ছবি: Wikimedia Commons
তথ্যবিস্তারিত
অবস্থানদরগাপাড়া, পদ্মার তীরে
খোলা সময়ফজরের আগে থেকে এশার পরে
প্রবেশ ফিবিনামূল্যে
বিশেষ দিনপ্রতি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কাওয়ালি

১৩শ শতকের সুফি সাধক, যাঁর নামে রাজশাহীর বিমানবন্দরের নামকরণ। কাওয়ালির আসরে যেতে পারলে অন্যরকম অভিজ্ঞতা।

০৪ · ভুবন মোহন পার্ক
ভুবন মোহন পার্কের স্মৃতিস্তম্ভ, রাজশাহী
ভুবন মোহন পার্কের স্মৃতিস্তম্ভ, শহরের কেন্দ্রে। ছবি: Wikimedia Commons

শহরের কেন্দ্র। হাঁটার দূরত্বে নিউমার্কেট, কুমারপাড়া, রাজশাহী কলেজ। পুরোনো বাড়ি আর ছোট দোকানের ভেতর দিয়ে হাঁটা একটা আলাদা অভিজ্ঞতা। সন্ধ্যা ৬টার পর সাহেব বাজার সবচেয়ে জমজমাট।

০৫ · রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনার কমপ্লেক্স। ছবি: Wikimedia Commons

রাজশাহী শহরের পূর্ব প্রান্তে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (RU); ৭৫৩ একরের একটা সবুজ স্বতন্ত্র শহর। ক্যাম্পাসের সবচেয়ে বিখ্যাত আকর্ষণ প্যারিস রোড; কাজলা গেট থেকে শুরু হয়ে পূর্ব দিকে চলে যাওয়া একটা লম্বা পথ, দু’পাশে সারি সারি সিকামোর গাছ ছায়া করে রেখেছে।

জায়গাকী দেখবেন
প্যারিস রোডসিকামোর-ছাওয়া দীর্ঘ অ্যাভিনিউ; ছবি তোলার আদর্শ
শহিদ মিনার কমপ্লেক্সঐতিহাসিক স্মারক, ৫২-৭১-র স্মৃতি
শহিদ স্মৃতি সংগ্রহশালামুক্তিযুদ্ধের জাদুঘর
কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারস্থাপত্য, পড়ুয়া পরিবেশ
জুবেরী গেস্ট হাউস ও আম-বাগানপ্যারিস রোডের শুরুতে

আদর্শ সময়: বিকেল ৪টার পর; সকালে ক্লাসের ভিড়। সাধারণ দর্শনার্থী ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেন, কাজলা/বিনোদপুর গেট দিয়ে। অটোতে শহর থেকে ৬০-১০০ টাকা।

০৬ · লালন শাহ মুক্তমঞ্চ

পদ্মার পাড়ে লালন শাহ পার্কের ভেতরে লালন শাহ মুক্তমঞ্চ; খোলা মঞ্চ যেখানে স্থানীয় কনসার্ট, কবিতা পাঠ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। পাশেই পদ্মা গার্ডেন; নদীর হাওয়া আর শহরের অন্যতম জনপ্রিয় সন্ধ্যা-আড্ডার জায়গা।

তথ্যবিস্তারিত
অবস্থানপাঠানপাড়া, বোয়ালিয়া; পদ্মার পাড়ে
আদর্শ সময়বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা
কী থাকেসপ্তাহান্তে কনসার্ট/মেলা; কখনো বিশাল সস্তা বাজার মেলা
পাশেইপদ্মা গার্ডেন, টি-বাঁধ, ছোট চা-পান-চটপটির দোকান

ফেসবুক পেজ (Lalon Shah Park) দেখে নিন; অনুষ্ঠান থাকলে দিনে দিনে জানা যায়।

০৭ · রাজশাহী হাইটেক পার্ক
রাজশাহী হাইটেক পার্ক
রাজশাহী হাইটেক পার্ক, পদ্মার ধারে। ছবি: Wikimedia Commons

রাজশাহীর নতুন প্রযুক্তি-হাব; পদ্মার ধারে আই-বাঁধের কাছে রাজশাহী হাইটেক পার্ক। ভেতরে দুটি মূল ভবন; আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টারসিলিকন টাওয়ার(জুলাই ২০২৪-এর পর পার্ক ও ভবনগুলোর নাম পরিবর্তিত হয়েছে।)

তথ্যবিস্তারিত
অবস্থানআই-বাঁধ এলাকা, পদ্মার পাড়ের কাছে
কী দেখবেনআধুনিক স্থাপত্য, সবুজ ক্যাম্পাস, রেইনওয়াটার হার্ভেস্টিং
কখন যাবেনঅফিস আওয়ার্স (রবি-বৃহস্পতি, ৯টা-৫টা); সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা
কীভাবে যাবেনশহরের ভেতর থেকেই অটোয় কয়েক মিনিট; পদ্মার পাড় ঘুরে যাওয়া যায়

প্রযুক্তি, স্টার্টআপ বা স্থাপত্যে আগ্রহ থাকলে দেখার মতো জায়গা। পদ্মার পাড়ে গেলে পথেই পড়ে; টি-বাঁধ/আই-বাঁধের সঙ্গে এক বিকেলে কভার করা যায়।

০৮ · রাতের রাজশাহী
রাতের রাজশাহী, ল্যাম্পপোস্টের নিচে পরিচ্ছন্ন রাস্তা
রাতের রাজশাহী; ল্যাম্পপোস্টের আলোয় চওড়া পরিচ্ছন্ন রাস্তা।

রাজশাহী দেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহরগুলোর একটি; রাত নামলে সেই পরিচ্ছন্নতা একদম অন্যরকম হয়ে যায়। শহর ফাঁকা, ল্যাম্পপোস্টের হলুদ আলো পরিষ্কার রাস্তায় লম্বা ছায়া আঁকে; এক রকম শান্ত-নাটকীয় দৃশ্য। দিনে যে শহর কোলাহলে ঢাকা, রাতে সে নিজের আসল চেহারা দেখায়।

তথ্যবিস্তারিত
আদর্শ সময়রাত ১০টা থেকে ১২টা
পছন্দের রুটবিনোদপুর → কাজলা → সাহেব বাজার → কোর্ট বাজার; অথবা পদ্মার পাড় ধরে আই-বাঁধ → টি-বাঁধ
বাহনপায়ে-চালিত রিকশা (অটো না), যেন আস্তে যায়
প্রায় ভাড়াপুরো ট্যুর ২০০-৪০০ টাকা, দরদাম করে
সময় লাগবে১-১.৫ ঘণ্টা

রাতের রাজশাহী মানে চওড়া পরিচ্ছন্ন রাস্তা, সারি সারি ল্যাম্পপোস্ট, বাতাসে হালকা ঠান্ডা; কাজলা পেরিয়ে সাহেব বাজারের সব দোকান ঝাঁপ ফেলে দিয়েছে, শুধু কয়েকটা রাতজাগা চা দোকান জেগে। কোর্ট চত্বরে একটা ছোট চা-বিরতি দিতে ভুলবেন না। সঙ্গে একজন বন্ধু রাখুন, আর কোনো শব্দ না করেই শহরটাকে শুনুন। আলোয় ভেজা পরিষ্কার রাস্তায় ধীরে চলা রিকশা; এই অনুভূতির জন্যই অনেকে দ্বিতীয়বার রাজশাহী আসেন।

শহরের আশেপাশে

০৯ · পুঠিয়া রাজবাড়ী
পুঠিয়া রাজবাড়ীর সামনের দিক
পুঠিয়া রাজবাড়ী; কমপ্লেক্সজুড়ে প্রায় ৫০টি মন্দির আর প্রাসাদ। ছবি: Wikimedia Commons
পুঠিয়া রাজবাড়ীর প্রাসাদ
পুঠিয়া রাজবাড়ী (১৮৯৫); ইন্দো-ইউরোপীয় স্থাপত্যের একটা উদাহরণ। ছবি: Wikimedia Commons
তথ্যবিস্তারিত
অবস্থানপুঠিয়া উপজেলা, শহর থেকে ৩২-৩৪ কিমি
খোলা সময়সকাল ৯টা-বিকেল ৫টা, প্রতিদিন
প্রবেশ ফি২০ টাকা (বাংলাদেশি) · ২০০ টাকা (বিদেশি) · ক্যামেরা আলাদা
কীভাবে যাবেনশিরোইল থেকে নাটোরগামী বাস (৬০-৮০ টাকা, ৪৫ মিনিট) বা রিজার্ভ CNG (৮০০-১,২০০ টাকা ফেরত-সহ)
দেখার সময়২-৩ ঘণ্টা

পুঠিয়া রাজবাড়ী (১৮৯৫) একটি ইন্দো-ইউরোপীয় স্থাপত্যের দু-তলা প্রাসাদ। আশেপাশে আছে পাঁচ-আনি জমিদার বাড়ি, গোবিন্দ মন্দির, শিব মন্দির, বড় আহ্নিক মন্দির, ছোট গোবিন্দ মন্দির; প্রায় ৫০টি মন্দির ছড়িয়ে আছে কমপ্লেক্সজুড়ে। টেরাকোটার কাজ সবচেয়ে ভাল সংরক্ষিত গোবিন্দ মন্দিরে।

পুঠিয়ার পথেই পড়ে বানেশ্বর হাট; আমের মৌসুমে রাজবাড়ী দেখে ফেরার পথে পাইকারি দরে আম কিনে আনতে পারেন।

১০ · বাঘা মসজিদ
বাঘা মসজিদ, রাজশাহী
বাঘা মসজিদ (১৫২৩); পোড়ামাটির ফুল-লতা সারা দেয়ালজুড়ে। ছবি: Wikimedia Commons
তথ্যবিস্তারিত
অবস্থানবাঘা উপজেলা, শহর থেকে ৪০ কিমি দক্ষিণ-পূর্বে
খোলা সময়সারাদিন, নামাজের সময় ছাড়া
প্রবেশ ফিনেই; দান করা যায়
কীভাবে যাবেনচারঘাটগামী বাস (৬০ টাকা) + লোকাল CNG, বা রিজার্ভ CNG (১,৫০০-২,০০০ টাকা, পুরো দিন)
দেখার সময়১.৫-২ ঘণ্টা

১৫২৩ সালে সুলতান নাসিরুদ্দিন নসরত শাহ্ নির্মিত। দশ গম্বুজ, পোড়ামাটির ফুল-লতা-পাতার নকশা সারা দেয়াল জুড়ে; বাংলাদেশের সুলতানি স্থাপত্যের সেরা উদাহরণ। পাশের বড় পুকুরটিও সমান বয়সের।

১১ · নাটোর রাজবাড়ী
নাটোর রাজবাড়ী, রানি ভবানীর জমিদার বাড়ি
নাটোর রাজবাড়ী; রানি ভবানীর সময়কালের প্রাসাদ। ছবি: Wikimedia Commons
তথ্যবিস্তারিত
অবস্থাননাটোর সদর, রাজশাহী থেকে ৪০ কিমি
খোলা সময়সকাল ৯টা-বিকেল ৫টা
প্রবেশ ফিরাজবাড়ী ২০ টাকা · উত্তরা গণভবন ৩০ টাকা
কীভাবে যাবেনযেকোনো নাটোরগামী বাস (৭০-১০০ টাকা)
দেখার সময়৩-৪ ঘণ্টা (দু’টা মিলিয়ে)

নাটোর রাজবাড়ী রানি ভবানীর সময়কালের জমিদার বাড়ি। উত্তরা গণভবন (পূর্বে দিঘাপতিয়া রাজবাড়ী) বর্তমানে রাষ্ট্রপতির অস্থায়ী আবাসস্থল হিসেবে সংরক্ষিত; বাগান অসাধারণ।

১২ · সোমপুর মহাবিহার
সোমপুর মহাবিহার, পাহাড়পুর
সোমপুর মহাবিহার, পাহাড়পুর; ৮ম শতকের পাল বৌদ্ধ বিহার, ২৭ একর জুড়ে। ছবি: Wikimedia Commons
তথ্যবিস্তারিত
অবস্থানপাহাড়পুর, নওগাঁ, রাজশাহী থেকে ৯০ কিমি (২.৫ ঘণ্টা)
খোলা সময়এপ্রিল-সেপ্টেম্বর: সকাল ১০টা-বিকেল ৬টা · অক্টোবর-মার্চ: সকাল ৯টা-বিকেল ৫টা
শুক্রবারদুপুরে বিরতি
প্রবেশ ফি২০ টাকা (বাংলাদেশি) · ২০০ টাকা (বিদেশি)
স্বীকৃতিইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যস্থল
দেখার সময়পুরো দিন (যাতায়াত-সহ)

৮ম শতকের পাল আমলের বৌদ্ধ বিহার, একসময়ে এশিয়ার বৃহত্তম। ভোরে বেরিয়ে দুপুরে দেখা শুরু, বিকেলে ফিরে আসা।

১৩ · সোনা মসজিদ
ছোট সোনা মসজিদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ
ছোট সোনা মসজিদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ; ১৫শ শতকের সুলতানি স্থাপত্য, কালো পাথর আর পোড়ামাটির মিশেল। ছবি: Wikimedia Commons
তথ্যবিস্তারিত
অবস্থানচাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী থেকে ৪৩ কিমি
খোলা সময়সকাল ৯টা-বিকেল ৬টা
প্রবেশ ফি২০ টাকা
কীভাবে যাবেনচাঁপাইগামী বাস বা রিজার্ভ CNG
বোনাসএকই দিনে আমের বাগান ঘুরে আসা যায় (মৌসুমে)

আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ যেতে চাইলে সোনা মসজিদটাও দেখে আসুন; ১৫শ শতকের সুলতানি স্থাপত্য, কালো পাথর আর পোড়ামাটির মিশেল।

১৪ · আলপনা গ্রাম, টিকইল
টিকইল আলপনা গ্রাম, নাচোলের ঘরের দেয়ালে আঁকা আলপনা
আলপনা গ্রাম, টিকইল: প্রতিটি বাড়ির দেয়ালজুড়ে চালের গুঁড়ো দিয়ে আঁকা ঐতিহ্যবাহী আলপনা। ছবি: Wikimedia Commons
তথ্যবিস্তারিত
অবস্থানটিকইল গ্রাম, নাচোল উপজেলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী থেকে ৬০-৭০ কিমি
খোলা সময়দিনের আলোয় যে কোনো সময়; সকাল ৯টা-বিকেল ৫টা আদর্শ
প্রবেশ ফিনেই; গ্রামবাসীদের আতিথ্যে দেখা যায়, ছবি তোলার আগে অনুমতি নিন
কীভাবে যাবেনরাজশাহী থেকে চাঁপাইগামী বাস, তারপর নাচোলে লোকাল CNG; অথবা রিজার্ভ গাড়ি (২,৫০০-৩,৫০০ টাকা, পুরো দিন)
দেখার সময়২-৩ ঘণ্টা

প্রায় প্রতিটি বাড়ির মাটির দেয়াল জুড়ে চালের গুঁড়ো দিয়ে আঁকা ঐতিহ্যবাহী আলপনা; ফুল, লতা, পাখি, জ্যামিতিক নকশা। বাড়ির মেয়েরাই বংশ পরম্পরায় এই শিল্প ধরে রেখেছেন। বিশেষ করে দুর্গা পূজা, লক্ষ্মী পূজা ও পহেলা বৈশাখের আগে নতুন আলপনা পড়ে; এসময় গেলে সবচেয়ে রঙিন। ক্যামেরা সঙ্গে নিন, কিন্তু গৃহস্থের ব্যক্তিগত পরিসরে সম্মান রাখুন।

০৫ · কী খাবেন

রাজশাহী মূলত ঐতিহ্যবাহী ফল, আম, গরুর মাংস, কালাই রুটি, দই আর মিষ্টির শহর। দামি রেস্তোরাঁর চেয়ে রাস্তার ধারের ছোট দোকানে স্বাদ পাবেন বেশি। নিচের ট্যাব থেকে যে ধরনের খাবার খুঁজছেন বেছে নিন। সিগনেচার তিনটি: কালাই রুটি, মড়মড়িয়ার হাঁসের কালাভুনা, গরুর কালা ভুনা

রাজশাহী এলে যে পদগুলো অন্তত একবার চেখে দেখতেই হবে; স্থানীয়দের কাছে এগুলোই শহরের পরিচয়। মূল তিনটি (কালাই রুটি, মড়মড়িয়া হাঁসের কালাভুনা, গরুর কালা ভুনা) ছাড়াও পুরোনো দোকানের মিষ্টি-পুরি, আর দিনের দু’প্রান্তের সিগনেচার চা; বিস্তারিত নিচের অ্যাকর্ডিয়নে।

কালাই রুটি
কালাই রুটি, ভর্তা ও হাঁসের মাংস সহ
কালাই রুটি, ভর্তা আর হাঁসের মাংস; রাজশাহীর সন্ধ্যা। ছবি: Wikimedia Commons

মাষকলাইয়ের ডাল আর চালের গুঁড়া মাখিয়ে মোটা রুটি, চুলায় ভেজে। দু’ধরনের কালাই রুটি পাওয়া যায়:

ধরনকী আলাদা
সাধারণনিয়মিত পুরু কালাই রুটি, ভর্তা-চাটনি-মাংসের সঙ্গে
স্পেশালআরও পুরু, ভেতরে কুসুম-জাতীয় টেক্সচার, একটু বেশি সময় চুলায় থাকে

সাথে পাবেন: বেগুন ভর্তা, ধনিয়াপাতার চাটনি, গরুর মাংসের ভুনা, হাঁসের মাংস, এবং কোথাও মরিচ ভর্তা/আলু ভর্তা।

জায়গাবিশেষত্বমূল্যঅবস্থান
বিনোদপুর কালাই রুটির দোকানবিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পাশে, সবচেয়ে বিখ্যাত৫০-৮০ টাকা/সেটবিনোদপুর বাজার
কাজলার কালাই কর্ণারহাঁসের মাংস সহ ভাল৬০-১৫০ টাকাকাজলা বাজার
রিজার্ভ বাজার ফুটপাতসরাসরি চুলা থেকে৪০-৬০ টাকারিজার্ভ বাজার মোড়
সাহেব বাজার মোড়দেরি রাত পর্যন্ত খোলা৫০-৮০ টাকানিউমার্কেট কাছাকাছি

সবচেয়ে উত্তম সময়: সন্ধ্যা থেকে রাত ১১টা। এই সময়টা চুলা গরম, আটা সদ্য বানানো, খরিদ্দার বেশি; রুটি সবচেয়ে ভাজা পাবেন।

মড়মড়িয়ার হাঁসের কালাভুনা

রাজশাহীর অন্যতম জনপ্রিয় খাবার, এবং অনেক স্থানীয়র মতে শহরের সবচেয়ে স্বাদু একটা পদ। শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে পবা উপজেলার মড়মড়িয়া বাজারে পাওয়া যায়।

মড়মড়িয়া বাজারের হাঁসের কালাভুনা
মড়মড়িয়া বাজারের হাঁসের কালাভুনা: মাটির চুলায় ধীর আঁচে, মসলা ছাড়া।

রান্নার ধরন: মাটির চুলায় দীর্ঘক্ষণ ধরে রান্না, কোনো রকম মসলা ছাড়া। কালো রঙ আসে এই দীর্ঘ-আঁচ থেকেই; মাংস নিজেই নিজের মশলা।

বিখ্যাত দোকান: তালুকদার বাড়ি। বাজারে আরও কয়েকটি দোকান আছে, কিন্তু সবচেয়ে নাম-করা এটি। দু’ধরনের কালাভুনা পাওয়া যায়:

ধরনকী আলাদা
সাধারণনিয়মিত পদ্ধতি; ভাত-ডাল-ভর্তার সঙ্গে দিনের যেকোনো সময়।
স্পেশালআরও বেশি সময় ধরে কষানো, কম পানি, ঘন রঙ; দাম কিছুটা বেশি।

সাথে পাবেন:

  • গরম গরম ভাত
  • পাতলা ডাল
  • কয়েক রকমের ভর্তা (বেগুন, আলু, ধনিয়াপাতা)

কখন যাবেন: দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে সবচেয়ে ফ্রেশ। সপ্তাহান্তে ভিড় বেশি; ফোনে আগে অর্ডার দিয়ে গেলে অপেক্ষা কমে।

কীভাবে যাবেন: শহর থেকে রিজার্ভ CNG (৮০০-১,২০০ টাকা যাওয়া-আসা), অথবা নিজস্ব গাড়ি। মড়মড়িয়া পবা উপজেলার দিকে, শহর থেকে আধঘণ্টার মতো পথ; দুপুরের দিকে গেলে সবচেয়ে ফ্রেশ পাবেন।

গরুর মাংসের কালা ভুনা

রাজশাহী শহরের আরেকটি জনপ্রিয় খাবার গরুর মাংসের কালা ভুনা। মূলত শহরের দু’তিনটি জায়গায় ভাল পাওয়া যায়; সবচেয়ে নাম-করা দু’টো নওহাটা বাজার আর সিটি হাট, এর সাথে কাটাখালির একটা রেস্টুরেন্ট।

নওহাটার সাপ্তাহিক হাটের গরুর কালা ভুনা
নওহাটার সাপ্তাহিক হাটের বিখ্যাত কালা ভুনা; দেশি মশলায় দীর্ঘ আঁচে কষানো। ছবি: Wikimedia Commons
জায়গাকী পাবেনঅবস্থানকখন আদর্শ
নওহাটা বাজারগরুর কালা ভুনা · গরুর ভাজা মাংসশহর থেকে ১০ কিমিরবি ও বৃহস্পতিবার ছাড়া সব দিন
সিটি হাটগরুর কালা ভুনা · ভাজা মাংসশহরের এক প্রান্তেশুধু রবিবার ও বৃহস্পতিবার (হাটের দিন)
একতা রেস্টুরেন্ট, কাটাখালিগরুর কালা ভুনা · এবং হাঁসের কালা ভুনাওকাটাখালিপ্রতিদিন

বিখ্যাত তিনটি দোকান (সিটি হাট ও নওহাটায়):

দোকানবিশেষত্ব
হানিফক্লাসিক গরুর কালা ভুনা
রিপনকালা ভুনা + গরুর ভাজা মাংস দু’টোই
ফয়সালকালা ভুনা + ভাজা মাংস, একসাথে অর্ডার করা যায়

যাবার দিন বেছে নিন: সিটি হাট সপ্তাহে শুধু রবি ও বৃহস্পতিবার বসে, ওই দিন গেলে স্বাভাবিক দরে ফ্রেশ পাবেন। বাকি সব দিন নওহাটার দোকানগুলো খোলা; দু’টোই কাছাকাছি, পরিকল্পনা সহজ। কাটাখালির একতাতে দু’ধরনের কালা ভুনা একসাথে চাইলে—সপ্তাহান্ত এড়িয়ে দিনে গেলে আরাম।

শাহী জিলাপি
বাটার মোড়ের শাহী জিলাপি
বাটার মোড়ের শাহী জিলাপি; মোটা, সিরাপে ভেজানো।

রমজানে বিশেষভাবে বিখ্যাত, তবে সারা বছরই পাওয়া যায়। মোটা, সিরাপে ভেজানো, এক টুকরো খেলেই বুঝবেন স্বাদের তফাত। শহরের সবচেয়ে নাম-করা জিলাপির ঠিকানা বাটার মোড়—বাটা শো-রুমের পাশের ব্যস্ত মোড়—এর কালী বাবুর জিলাপির দোকান

দোকানঅবস্থানকখন
কালী বাবুর জিলাপিবাটার মোড়বিকেল থেকে রাত; শহরের সবচেয়ে বিখ্যাত
রহমানিয়া মিষ্টান্ন ভাণ্ডারশহরের ভেতরেসারাদিন
শামীম সুইটসশহরের কেন্দ্রেবিকেল থেকে রাত
গ্র্যান্ড রিভারভিউয়ের জিলাপিপদ্মার ধারের হোটেলপ্রিমিয়াম, বসে খাওয়ার পরিবেশ

দাম প্রায় ৩৫০-৫০০ টাকা/কেজি; রমজানে বেশি। গরম তাজা পাওয়ার জন্য সন্ধ্যায় গেলে ভাল। ভিড় থাকলেও কয়েক মিনিট দাঁড়ালে ফ্রেশ কড়াই থেকে পাবেন।

রানা মিষ্টি ঘরের পুরি-মিষ্টি
রানা মিষ্টি ঘরের পুরি ও মিষ্টি
রানা মিষ্টি ঘর, CNB মোড়; সন্ধ্যার গরম পুরি, পাশে রসগোল্লা।
তথ্যবিস্তারিত
জায়গারানা মিষ্টি ঘর, CNB মোড়
খোলা সময়সন্ধ্যা ৫:৩০ থেকে রাত ১০টা
কী খাবেনগরম পুরি (আলু/মাংস ভর্তি) + একটা মিষ্টি (রসগোল্লা/কালোজাম)
দামপুরি ১০-২০ টাকা/পিস · মিষ্টি ২৫-৪০ টাকা/পিস
কখন আদর্শসন্ধ্যার পর; ভিড় শুরু হয় ৬টা থেকে

সন্ধ্যার পর CNB মোড়ের ভিড় মানেই অর্ধেক রানা মিষ্টি ঘরের সামনে। গরম পুরিটা ভেঙে পাশে রাখা মিষ্টিটা ঠোঁটে দিলে যে একটু নুন-চিনির খেলা শুরু হয়; ঠিক সেটাই রাজশাহীর সন্ধ্যা।

অতিথি হোটেলের দুধ চা
অতিথি হোটেল ও রেস্টুরেন্ট, ভদ্রার মোড়
অতিথি হোটেল, ভদ্রার মোড়; সকালের নাশতার পরের দুধ চা।

রাজশাহীর দুটো সিগনেচার চা: রাতে বর্নালীর মালাই চা, সকালে অতিথি হোটেলের দুধ চা। ভদ্রার মোড়ের অতিথি হোটেল ও রেস্টুরেন্টে সকালের নাশতা শেষ করে এক কাপ দুধ চা; স্থানীয়দের কাছে এটাই সকালের শেষ রিচুয়াল।

তথ্যবিস্তারিত
জায়গাঅতিথি হোটেল, ভদ্রার মোড়
আদর্শ সময়ভোর ৬টা থেকে সকাল ১০টা
কী খাবেননাশতার পরে দুধ চা; ঘন, গরম, কড়া
পরামর্শনাশতার অর্ডার দেওয়ার সময়েই চা বলে রাখুন; ভিড়ে শেষের দিকে অপেক্ষা বাড়ে

পরোটা-ভাজি-ডিম-গরুর মাংসের নাশতার পরে এক কাপ ঘন দুধ চা; এটাই রাজশাহীর সকালের সম্পূর্ণ ছবি। যে কোনো হোটেলে চা মেলে, কিন্তু অতিথির চা-ই বহুকাল ধরে নাম-করা।

বর্নালীর মালাই চা
বর্নালী টি স্টলের মালাই চা
মালাই চা, বর্নালী টি স্টল; রাতের নিজস্ব রিচুয়াল।
তথ্যবিস্তারিত
জায়গাবর্নালী টি স্টল, লক্ষ্মীপুর/অলোকার মোড় এলাকা
খোলা সময়সন্ধ্যা ৭টা থেকে গভীর রাত (প্রায় ২টা পর্যন্ত)
কী খাবেনমালাই চা (ঘন দুধে জ্বাল দেয়া, উপরে সর)
দাম৩০-৫০ টাকা/কাপ
পরামর্শরাত ১১টার পর সবচেয়ে জমজমাট; ছাত্রছাত্রী, বাইকার, রাতপ্রেমীরা সবাই থাকেন

রাজশাহী যদি “শান্ত শহর”ই হয়, রাত ১১টার বর্নালী তার একমাত্র ব্যতিক্রম। মোটরসাইকেলের গর্জন, ছাত্রছাত্রীদের আড্ডা, এক কাপ ঘন দুধের চায়ের ভেতরে চামচ ডুবিয়ে সরটা তোলার অনুষ্ঠান; এসব রাজশাহী রাতের আনুষ্ঠানিকতা।

রাজশাহী শহরে বেশ কয়েকটি জায়গায় ভাল নাশতা পাওয়া যায়। নিচের তালিকা থেকে নিজের জন্য সবচেয়ে কাছের জায়গাটা বেছে নিন।

জায়গাঅবস্থানবিশেষত্ব
অতিথি হোটেল ও রেস্টুরেন্টভদ্রার মোড়হরেক রকমের নাশতা — সবচেয়ে আদর্শ জায়গা, ভ্যারাইটির জন্য সেরা। নাশতার পর একটা দুধ চা মাস্ট; রাজশাহীর সকালের সিগনেচার চা এখানেই।
বেলিফুল মিষ্টান্ন ভাণ্ডাররাজশাহী শহর (৩ শাখা)ঐতিহ্যবাহী নাশতা: গরম পরোটা, সবজির ভাজিহালুয় (মিষ্টি); ডিম-মাংস বা অন্য প্রোটিন নেই
Dallas Restaurantবিন্দুর মোড়নাশতার জন্য বিখ্যাত; ভোর থেকেই খোলা
জোড়াকালি মিষ্টান্ন ভাণ্ডারমালোপাড়াসকালের গরম পুরি ও ডাল; ছাত্রছাত্রীদের প্রিয়

নোট: কয়েকটা ছোট দোকানে শুধু গরম পুরি-ডাল-পরোটা পাওয়া যায়; ডিম, মাংস বা প্রোটিনজাতীয় খাবার থাকে না। বেলিফুল মিষ্টান্ন ভাণ্ডার-এর নাশতাও পরোটা, সবজির ভাজি ও হালুয়—প্রোটিন ছাড়াই। সম্পূর্ণ নাশতা বা প্রোটিনসহ মেনু চাইলে অতিথি হোটেল বা শহরের অন্যান্য নাশতার হোটেলে যাবেন।

এই হোটেলগুলোর বাইরে সাহেব বাজার, রেলস্টেশন এলাকা ও নিউমার্কেট মোড়ের ছোট হোটেলগুলোও সকাল ৬টা থেকে চালু থাকে; পরোটা ১৫-২৫ টাকা, ভাজি ৩০-৬০ টাকা, ডাল-পুরি ১৫-২০ টাকা।

বসে আরাম করে খাওয়ার জন্য; বাজেট অনুযায়ী তিন ভাগে। প্রতিটি নামে ক্লিক করলে Google Maps-এ লোকেশন, রিভিউ, ছবি ও খোলার সময় পাবেন।

লাক্সারি / ফাইন-ডাইনিং

পরিবার, বিজনেস ডিনার, বিশেষ উপলক্ষে।

রেস্তোরাঁএলাকাবিশেষত্ব
Nanking Chinese Restaurantমণিবাজার, সার্কিট হাউস রোডরাজশাহীর সবচেয়ে পুরোনো ও ক্লাসিক চাইনিজ; পরিবারের সঙ্গে যাওয়ার জন্য আদর্শ
Chili’s Thai & Chinese Restaurantজিরো পয়েন্ট, সাহেব বাজারথাই-চাইনিজ মেনু, শহরের কেন্দ্রে
Royal Raj Restaurantশালবাগানহোটেলের ভেতরের রেস্তোরাঁ, মাল্টি-কুইজিন
Grand River View Restaurantপদ্মার ধারেপদ্মা-ভিউ, ইন-হাউস রেস্তোরাঁ

মিড-বাজেট / ক্যাজুয়াল

বন্ধু-বান্ধব, ক্যাজুয়াল ডিনার, ছাত্রছাত্রী-প্রিয়।

রেস্তোরাঁএলাকাবিশেষত্ব
Heliumস্টেশন রোড / সাহেব বাজার ওভারব্রিজআধুনিক ক্যাফে; কোল্ড কফি, বার্গার, পাস্তা
PizzaBurg Rajshahiরাণী বাজার, ইউনাইটেড টাওয়ারপিজ্জা, বার্গার, ফ্রাইড চিকেন চেইন
North Burgরেশমপট্টি মোড়, সাগরপাড়াবার্গার-পিজ্জা, লাক্সারি ইন্টেরিয়র
Backyard Kitchenসাগরপাড়া, চৌরাস্তা মোড়পিজ্জা ও পাস্তায় খ্যাতি, ফ্যামিলি রেস্তোরাঁ
Night Shiftশহরের কেন্দ্র · Google Maps-এ যাচাই করুন২৪ ঘণ্টা খোলা, লেট-নাইট-প্রিয়
Hello Juniorশহরের কেন্দ্র · Google Maps-এ যাচাই করুনফাস্ট-ফুড, ছাত্রছাত্রী-প্রিয়
Chillox Rajshahiস্টেশন রোড, নিউমার্কেটের দক্ষিণেদেশি বার্গার চেইন; বিফ-চিকেন বার্গার
Master Chef Bangla Restaurantলক্ষ্মীপুর, ইউনাইটেড প্লাজাদেশি-চাইনিজ মাল্টি-কুইজিন; চিকেন গ্রিল-এ আলাদা নাম, পার্টি সেন্টার
Aurora Cafe & Restaurantমহিলা কলেজ রোড, কাদিরগঞ্জবাজেটে ভাল খাবার; কফি-স্মুদিও পাওয়া যায়
Aurora 2জিরো পয়েন্ট, সাহেব বাজার (Zodiac Palace, ৮ম তলা)একই ব্র্যান্ডের দ্বিতীয় ব্রাঞ্চ, বড় পরিসর

স্থানীয় / দেশি

দেশি খাবার, ভাত-মাছ-মাংস; স্থানীয়দের নিজস্ব জায়গা।

রেস্তোরাঁএলাকাবিশেষত্ব
Rahmania Biryani & Kababশহরের কেন্দ্রপুরোনো ঐতিহ্যবাহী দেশি; হালিম, কাচ্চি, গরুর মাংসে নাম
Otithi Hotel & Restaurantভদ্রার মোড়সারাদিন খোলা; নাশতা, ভাত-ভর্তা, সিঙ্গাড়া-চিকেন গ্রিল; নাশতার পর দুধ চা সিগনেচার
Dallas Restaurantবিন্দুর মোড়দেশি ব্রেকফাস্ট-ভাত-মাংস, ভোর থেকে খোলা
গল্পকথা ফুডস কর্ণার (Golpokotha)নিউমার্কেটের সামনেবিকেল-সন্ধ্যার ফুচকা-চটপটি, রাজশাহীর জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুড স্টল

ঢাকার চেইন ও ব্র্যান্ড: রাজশাহী ব্রাঞ্চ

পরিচিত ঢাকা-চেইনের রাজশাহী আউটলেট; খাবারের মান প্রায় ঢাকার মতোই, পরিবেশও।

ব্র্যান্ডএলাকাবিশেষত্ব
Kacchi Bhai Rajshahiনিউমার্কেট রোডঐতিহ্যবাহী কাচ্চি বিরিয়ানি, যুক্তিসঙ্গত দামে
Sultan’s Dine Rajshahiরাণী বাজারসিগনেচার কাচ্চি, সাইড-ডিশ; ফ্যামিলি ডিনারের জন্য পরিচিত
KFC Rajshahiশহরের কেন্দ্রেআন্তর্জাতিক ফ্রাইড চিকেন চেইন
Kabab Houseরাণী বাজার মোড়, ইউনাইটেড টাওয়ারকাবাব-ভিত্তিক, বাটার নান-গ্রিল চিকেনে নাম

পিজ্জা-বার্গার চেইন PizzaBurgChillox-এর ব্রাঞ্চ ওপরে মিড-বাজেট সেকশনে দেখুন।

ক্যাফে: স্পেশালটি কফি ও বেকারি

বসে ল্যাপটপ খুলে কাজ করতে, বন্ধুর সঙ্গে আড্ডা দিতে, বা ভাল এক কাপ কফি; শহরের পরিচিত কফি স্পট।

ক্যাফেঅবস্থানবিশেষত্ব
Bites and Brewশহরের কেন্দ্রেভাল কফি ও স্ন্যাকস; লোকাল-ফেভারিট, স্টাডি/ওয়ার্ক-ফ্রেন্ডলি
Chalk & BeansHouse 134, ক্যান্টনমেন্ট রোড, সেক্টর ৩আধুনিক ইন্টেরিয়র; বিলিয়ার্ড ও গেমিং জোন; বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০:৩০
The Half Baked Coffee Shopভদ্রার মোড়, পারফেক্ট লিভিং আসমান হাইটস, ১ম তলাকোল্ড-ব্রু ও স্ন্যাকস; ভদ্রা এলাকার নতুন পছন্দ
Kathleen Pastry Shopশহরের ভেতরেকফির সঙ্গে বেকারি; পেস্ট্রি-কেক-কুকিতে পরিচিত

জুস কর্ণার ও কোল্ড

কম দামে ফ্রেশ জুস, শেক, বাবল টি; ছাত্রছাত্রী-প্রিয়।

জায়গাঅবস্থানবিশেষত্ব
Crowd Zoneমহিলা কলেজ রোড১০০+ জুস, শেক ও বাবল টি; বাজেটে সেরা; কোল্ড কফিতেও নাম

সপ্তাহান্তে লাক্সারি, মিড-বাজেট, চেইন ও ক্যাফেতে ভিড় বেশি; আগে থেকে টেবিল রিজার্ভ করা ভাল।

০৬ · আম: রাজশাহীর আসল রাজা

বছরের একটা নির্দিষ্ট জানালায় রাজশাহী যেমন গন্ধে বদলে যায়, সেই গন্ধটার নাম আম। শুধু এই কারণেই অনেকে শহর আসেন, অনেকে আবার এই কারণেই অন্য সময় আসেন না। মৌসুম মে থেকে সেপ্টেম্বর, কিন্তু প্রতিটি জাতের নিজস্ব দু’-তিন সপ্তাহের জানালা; বুঝে এলে স্বাদ ভিন্ন।

রাজশাহীর আম
রাজশাহীর আম; মে থেকে সেপ্টেম্বর, জাতভেদে আলাদা স্বাদ।
জাত ও মৌসুম ক্যালেন্ডার
জাতমৌসুমবিশেষত্ব
গোপালভোগমে শেষ-জুনের শুরুমৌসুমের প্রথম জাত, ছোট-মাঝারি, মিষ্টি
ক্ষীরশাপাতি (হিমসাগর)জুনের মাঝামাঝিঘন রসালো, ছোট আঁটি
ল্যাংড়াজুনের শেষপাকলে হলুদ-সবুজ, রসালো, স্বাদে অগ্রগণ্য
হিমসাগরজুনের শেষকম-আঁটি, খেতে আরাম
ফজলিজুলাইবড় সাইজ, পরিবারে কাটার জন্য
আম্রপালিজুলাই-অগস্টদেরিতে আসা জাত, মিষ্টি
আশ্বিনাঅগস্ট-সেপ্টেম্বরমৌসুমের শেষ, আচার-পাল্পের জন্য সেরা
খুচরা কেনা

স্বল্প পরিমাণে কিনে নিজে খেতে চাইলে শহরের ফলের দোকানই যথেষ্ট। দাম তুলনামূলকভাবে বেশি, কিন্তু বাছাই-করা, পাকা, ঝামেলামুক্ত।

বাজারঅবস্থানকী পাবেন
সাহেব বাজার ফলের আড়তসাহেব বাজারসব জাত, ৫-১০ কেজি প্যাক, রিটেইল
নিউমার্কেট ফলের দোকাননিউমার্কেট মোড়মাঝারি দাম, বাছাই-করা
কোর্ট বাজারকোর্ট চত্বরবিকেলের পর সবচেয়ে তাজা
শালবাগান কাঁচা বাজারশালবাগানলোকাল দরে, সরাসরি বিক্রেতা

দরদাম করে নিন; মৌসুমের শুরু/শেষে দাম ওঠানামা করে। শুরুতে গোপালভোগ ১০০-১৪০ টাকা/কেজি, পিকে ৬০-৯০ টাকা; ল্যাংড়া-ফজলি ৭০-১২০ টাকা।

পাইকারি ও বাগান-সরাসরি

বেশি কিনতে বা ঢাকায় পাঠাতে চাইলে পাইকারি হাটে যান। ভোর ৪-৫টা থেকে শুরু, ৮-৯টার মধ্যে দাম স্থির; চাষি থেকে সরাসরি কিনলে দাম খুচরার অর্ধেক বা তার কম।

হাট/আড়তঅবস্থানবিশেষত্ব
বানেশ্বর হাটপুঠিয়া, রাজশাহী (শহর থেকে ~৩০ কিমি)রাজশাহী জেলার সবচেয়ে বড়; সপ্তাহে দু’বার, ভোর থেকে
কানসাট আম বাজারশিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ (~৭০ কিমি)বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় আমের বাজার; দৈনিক কোটি টাকার লেনদেন
ভোলাহাট আম বাজারভোলাহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জক্ষীরশাপাতি-ল্যাংড়ার জন্য বিখ্যাত
সাপাহার আম বাজারসাপাহার, নওগাঁ (~১১০ কিমি)আম্রপালি-আশ্বিনার জন্য পরিচিত
চারঘাট-বাগমারার বাগানচারঘাট, বাগমারা (রাজশাহী জেলা)বাগান-সরাসরি কেনা; মালিকের সঙ্গে চুক্তি

পাইকারি কেনার পদ্ধতি: ৫০-১০০ কেজির ক্যারেট/বাঁশের ঝুড়ি একক। গোটা বাগানের ফল চুক্তি করেও কেনা যায় (মৌসুম-শুরুতে); দাম-কম, কিন্তু পাকা-কাঁচার ঝামেলা নিজের। প্রথমবার গেলে বানেশ্বর সবচেয়ে সহজ; ৩০ কিমি দূরত্ব, সকালে গিয়ে দুপুরে ফেরা যায়।

ঢাকা বা অন্য শহরে পাঠানো

কেনা আম ঢাকায় পৌঁছানোর কয়েকটা পথ:

পরিষেবাখরচ (১০ কেজির ক্যারেট)সময়
Sundarban Courier১৫০-২৫০ টাকা১ দিন
SA Paribahan১২০-২০০ টাকা১ দিন
Janani Express১৫০-২৫০ টাকা১ দিন
আম-স্পেশাল ট্রেন (মৌসুমে)১.৪৭ টাকা/কেজি (BR)একই দিন
বাস কার্গো (ন্যাশনাল)১০০-১৮০ টাকাএকই দিন

প্যাকেজিং: বাঁশের ঝুড়ি বা প্লাস্টিকের ক্যারেট, ভেতরে খড়/খবর-কাগজ; খুব পাকা আম আলাদা স্তরে। মৌসুমের পিকে আম-স্পেশাল ট্রেন (Rajshahi → Dhaka Cantonment) সবচেয়ে সস্তা ও দ্রুত; বাংলাদেশ রেলওয়ের ঘোষণা দেখে নিন।

কেনার সময় কিছু কথা
  • কেমিক্যাল-মুক্ত আম চিনতে: রঙ একদম একই-রকম নয়, খোসায় কিছু দাগ আছে, ঘ্রাণ স্বাভাবিক। অতিরিক্ত উজ্জ্বল হলুদ এবং একদম-নিখুঁত আম এড়িয়ে চলুন।
  • পাকা বাছতে: বোঁটার দিকে আঙুল দিয়ে আলতো চাপ দিলে নরম, ঘ্রাণ স্পষ্ট। চাপ দিলে গর্ত হলে অতি-পাকা।
  • আশ্বিনা/আম্রপালি আচার-পাল্পের জন্য কিনতে চাইলে অগাস্ট-সেপ্টেম্বরে যাবেন।
  • বানেশ্বর/কানসাটে গেলে নগদ টাকা নিয়ে যান; ছোট চাষিরা বিকাশ-নগদ সবসময় নেন না।

বিশদ ও বাগান-ট্যুরের তথ্য: জেলা প্রশাসনের হর্টিকালচার সেন্টার, রাজশাহী ও স্থানীয় চাষি সমিতি থেকে সাহায্য পাওয়া যায়।

০৭ · কী কিনবেন

রাজশাহী থেকে যা না কিনলেই নয়; প্রতিটির বিস্তারিত নিচের অ্যাকর্ডিয়নে।

রাজশাহী সিল্ক
রাজশাহী সিল্কের শাড়ি
রাজশাহী সিল্কের শাড়ি; শহরের সবচেয়ে পুরোনো রপ্তানি।
দোকানঅবস্থানযোগাযোগ
সোপুরা সিল্ক মিলসB-74, BSCIC শিল্প এলাকা, সোপুরা01712-646713
রাজশাহী সিল্ক ফ্যাশনA-160/161, BSCIC, সোপুরাশোরুমে
উষা সিল্কসাহেব বাজারশোরুমে
প্যারামাউন্ট সিল্কনিউমার্কেটশোরুমে
রেশম সিল্ককুমারপাড়া, সাহেব বাজারশোরুমে

পিওর সিল্ক যাচাই: একটা সুতা বের করে আগুনে জ্বালান; চুলের গন্ধ এলে পিওর, প্লাস্টিকের গন্ধ এলে মিশ্রিত।

আম

রাজশাহী থেকে ফেরার সময় আম না নিয়ে গেলে ভ্রমণ অসম্পূর্ণ। বিস্তারিত ০৬ · আম: রাজশাহীর আসল রাজা অধ্যায়ে; সরাসরি যে অংশ খুঁজছেন:

পাটালি গুড় ও খেজুর গুড়

শীতকালে (ডিসেম্বর-ফেব্রুয়ারি) রাজশাহী আর নাটোরের পথে পথে খেজুরের রস ও পাটালি গুড়ের ছোট দোকান। পথে নাটোর পড়ে; কাঁচাগোল্লাও সেখান থেকে।

নকশী কাঁথা ও হস্তশিল্প

পুঠিয়া এলাকায় কয়েকটি ছোট কোঅপারেটিভ আছে যেখানে নারীরা ঐতিহ্যবাহী নকশী কাঁথা তৈরি করেন। বরেন্দ্র জাদুঘরের পাশের দোকানগুলোতেও পাওয়া যায়।

খাজা ও মালাইকাড়ি

ঢাকা-গামী লম্বা রাস্তায় সইতে পারে এমন মিষ্টি। সাহেব বাজারের জনপ্রিয় মিষ্টান্ন ভাণ্ডারখাজা ভাণ্ডার-এ ভাল মানের পাওয়া যায়।

০৮ · ভ্রমণ টিপস

কিছু ছোট ছোট জিনিস যা আগে জানলে রাজশাহী ভ্রমণ মসৃণ হবে।

শহরে চলাচল: অটোরিকশাই রাজা

রাজশাহী শহরের ভেতরে কোনো বাস চলে না। মূল বাহন অটোরিকশা (ইজিবাইক); শহরের প্রায় সব মোড়, সব রাস্তা, সব সময়ে পাওয়া যায়। ৬০-১৫০ টাকার মধ্যে শহরের যেকোনো প্রান্তে যাওয়া যায়। ছোট দূরত্বে সাধারণ রিকশাও আছে (৩০-৬০ টাকা)।

রেলস্টেশনে নেমে অটো নেবেন কীভাবে? স্টেশনের ভেতরে দাঁড়ানো অটোরিকশাগুলো সাধারণত বেশি দাম চায় (অনেক সময় দ্বিগুণ)। পরামর্শ: স্টেশন থেকে হেঁটে বের হোন, রাস্তা পার হয়ে অন্যপাশে গিয়ে অটো ডাকুন; স্বাভাবিক ভাড়ায় চলে যাবে।

শহরের বাইরে (বাইরের জেলা/পুরো দিনের ট্যুর): CNG রিজার্ভ নিন। দাম ১,২০০-২,০০০ টাকা/দিন, ড্রাইভারসহ। হোটেল রিসেপশনে বললে যোগাযোগ করিয়ে দেয়।

অ্যাপ ভিত্তিক রাইড-শেয়ার: রাজশাহীতে Uber, Pathao, inDrive কোনোটাই এখনো কাজ করে না। অটো-রিকশা আর সিএনজি-ই ভরসা।

নিজে চালিয়ে ঘুরতে চান? শহরের কয়েকটা জায়গায় ইলেকট্রিক বাইক ও সাইকেল ভাড়া পাওয়া যায়; পদ্মার পাড়, বিনোদপুর, ও কাজলা চত্বরে কয়েকটি ছোট রেন্টাল আছে। ঘণ্টা/দিন হিসাবে নেওয়া যায়। ছাত্রছাত্রীদের ভেতরে জনপ্রিয়, এবং পদ্মার ধার দিয়ে সাইকেল চালানোর অভিজ্ঞতা আলাদা।

নিরাপত্তা

  • রাজশাহী বাংলাদেশের সবচেয়ে নিরাপদ শহরগুলোর একটি। রাতে শহরের ভেতরে ঘোরাঘুরিতে কোনো সমস্যা নেই।
  • পদ্মার চরে গেলে সঙ্গী সঙ্গে নিন, রাতে একা যাওয়া এড়িয়ে চলুন।

০৯ · জরুরি যোগাযোগ

ভ্রমণের সময় হাতের কাছে রাখার জন্য কিছু নম্বর ও ঠিকানা। বিপদের সময় কাজে আসবে; বাকি সময় লুকিয়ে থাকুক।

হটলাইন নম্বর
পরিষেবানম্বর
জাতীয় জরুরি সেবা (পুলিশ, ফায়ার, অ্যাম্বুলেন্স)999
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (RMP)0721-776999
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (RMCH)0721-772150
ফায়ার সার্ভিস (রাজশাহী)0721-775015
ট্যুরিস্ট পুলিশ (রাজশাহী)01320-222227
রাজশাহী রেলস্টেশন0721-772504
শাহ মখদুম বিমানবন্দর0721-761141
বাংলাদেশ রেলওয়ে হেল্পলাইন13228
নারী ও শিশু সহায়তা109
স্বাস্থ্য বাতায়ন16263
দুর্নীতি দমন কমিশন (হটলাইন)106
হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক
নামঅবস্থানবিশেষত্ব
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (RMCH)শহরের কেন্দ্রবৃহত্তম সরকারি হাসপাতাল; ২৪ ঘণ্টা জরুরি বিভাগ
ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালএয়ারপোর্ট রোড২৪ ঘণ্টা খোলা; স্পেশালাইজড ইমার্জেন্সি
শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালশহরের কেন্দ্রকার্ডিও, অর্থো, নেফ্রো, সার্জারি; ২৪/৭ ইমার্জেন্সি
জমজম ইসলামী হাসপাতালশহরের ভেতরে২৪/৭ অ্যাম্বুলেন্স; CT/MRI/ECG/আল্ট্রা
রাজশাহী জেনারেল হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিকশহরের কেন্দ্রগাইনি, কার্ডিও, পেডিয়া; ডায়াগনস্টিকে নাম
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারলক্ষ্মীপুরব্যক্তিগত, দ্রুত রিপোর্ট; দেশজুড়ে পরিচিত চেইন

জরুরি সময়ে 999 সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য; অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাতে শহরের ভেতরে ১০-১৫ মিনিট।

ফার্মেসি ও ওষুধ
ফার্মেসিঅবস্থানবিশেষত্ব
Lazz Pharma Ltd, RajshahiGround Floor, 159/A, কাদিরগঞ্জচেইন মডেল ফার্মেসি; ভোর থেকে রাত ১২টা
RMCH-র আশপাশের ফার্মেসিলক্ষ্মীপুর / মেডিকেল মোড়হাসপাতালের আশপাশে অনেকগুলি; কয়েকটি ২৪ ঘণ্টা
সাহেব বাজার ফার্মেসি গুচ্ছসাহেব বাজারপুরোনো শহরের কেন্দ্র; অনেকগুলি বিকল্প
নিউমার্কেট ফার্মেসিনিউমার্কেট মোড়নিউমার্কেট এলাকার সবচেয়ে কাছের

পরামর্শ: রাতে ওষুধ লাগলে RMCH-এর সামনের ২৪-ঘণ্টা ফার্মেসিতে যান; প্রেসক্রিপশন না থাকলে সাধারণ ওষুধ পাওয়া যায়, রিসেপশনে ডাক্তার ডিউটিতে থাকেন।

থানা ও পুলিশ স্টেশন

রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের চারটি প্রধান থানা; কোন এলাকায় ঘটনা ঘটেছে সেই অনুযায়ী থানা বাছবেন। জরুরি দরকারে 999 অথবা ট্যুরিস্ট পুলিশ 01320-222227

থানাএলাকাজুরিসডিকশন
বোয়ালিয়া থানাশহরের কেন্দ্রসাহেব বাজার, নিউমার্কেট, ভদ্রার মোড়, পদ্মার পাড়
রাজপাড়া থানাপশ্চিম রাজশাহীশালবাগান, কাদিরগঞ্জ, রাজপাড়া
মতিহার থানাপূর্ব রাজশাহীবিনোদপুর, কাজলা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, কাটাখালি
শাহ মখদুম থানাউত্তর রাজশাহীবিমানবন্দর এলাকা, নওদাপাড়া, হাইটেক পার্ক
গাড়ি ও অটো সার্ভিস

দীর্ঘ ড্রাইভে এসে গাড়ির ছোট-বড় সমস্যায় কাজে আসবে।

সার্ভিস সেন্টারঅবস্থানবিশেষত্ব
Auto Spark (চন্দ্রিমা)মেহেরচণ্ডী মধ্যপাড়া, পদ্মা আবাসিক, চন্দ্রিমাআধুনিক ডায়াগনস্টিক টুল; মাল্টি-ব্র্যান্ড সার্ভিস
Auto Spark (স্টেশন রোড)স্টেশন রোড, শুভ পেট্রোল পাম্প-এর কাছে, শেরোইল, বোয়ালিয়াশহরের কেন্দ্রের কাছে; একই ব্র্যান্ডের দ্বিতীয় ব্রাঞ্চ
Auto Spark হটলাইন01321-233671 · 01760-401605
লক্ষ্মীপুর গাড়ির গ্যারেজ গুচ্ছলক্ষ্মীপুরছোট গ্যারেজ, ব্রেক/ক্লাচ/টায়ার মেরামত; দাম তুলনামূলকভাবে কম
বাইক/স্কুটার মেরামত (বিনোদপুর-কাজলা)বিনোদপুর-কাজলা রোডমোটরসাইকেল-স্কুটারের ছোট মেরামত, টিউব-প্যাচ

Auto Spark সময়সূচি: শনি-বৃহস্পতি ১০টা-৯টা, শুক্রবার বন্ধ। জরুরি দিনে আগে ফোনে নিশ্চিত হয়ে গেলে অপেক্ষা কমে।

শেষ কথা

রাজশাহী হঠাৎ চমকে দেওয়ার শহর না; এটা ধীরে ধীরে চেনার শহর। সকালে পদ্মার পাড়ে চা, দুপুরে পুঠিয়ার সিঁড়িতে রোদ, বিকেলে বরেন্দ্র জাদুঘরের নিরিবিলি কোণে দাঁড়িয়ে পাঁচশো বছরের পাথরের গান শোনা, সন্ধ্যায় চুলায় ভাজা কালাই রুটি; রাজশাহী এভাবেই ভাঙে নিজেকে।

দু’তিন দিনে শহর দেখা যায়, সপ্তাহে আশেপাশ। ফেরার সময় ব্যাগে এক জোড়া সিল্ক শাড়ি, এক কেজি ক্ষীরশাপাতি, আর একটা ছোট নকশী কাঁথা; যা আমার কাছে অন্তত রাজশাহী চিনিয়ে দেওয়ার তিনটি ছোট উপহার।

আসুন, ধীরে ঘুরুন। শহর তাড়াহুড়ো পছন্দ করে না।


এই গাইডটি মে ২০২৬-এ তৈরি। ট্রেন/বাসের সময়সূচি, ভাড়া, হোটেলের দাম মাঝে মাঝে বদলায়; ভ্রমণের আগে অনুগ্রহ করে নিশ্চিত হয়ে নিন। কোথাও কিছু ভুল পেলে বা যোগ করার মতো কিছু থাকলে mail@jaf.run-এ লিখুন; পরের সংস্করণে যোগ হবে।


thanks for reading. the rest of the archive is here.